৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ , অক্টোবর ১৬, ২০২৬

চামড়ার বাজার: কুমিল্লায় হাহাকার

সৈয়দ সাফিউল হোসেন চিশতী

প্রকাশ: ১১:৫৭, ১ জুন ২০২৬

চামড়ার বাজার: কুমিল্লায় হাহাকার

ছবি: সংগৃহীত

মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদ উল আযহা। ঈদুল আযহায় গরু, ছাগল, ভেড়া, কোরবানি করে এর চামড়া বিক্রি করে সে চামড়ার টাকা গরীব,দুঃখী, অসহায়, এতিমদের দিয়ে দেওয়া মুসলমানদের একটি বহুদিন ধরে চলে আসা প্রথা। যারা কুরবানী করেন তার একটু বেশি দামে এটি বিক্রি করতে চান। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে দেশজুড়ে কাঁচা চামড়ার বাজারে যে দৈন্যদশা চলছে, কুমিল্লাও এর ব্যতিক্রম নয়।

ঈদুল আযহায় চামড়া ব্যবসায় কুমিল্লা জুড়ে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন , ভালো দাম পাননি। এবার এতিমখানা মাদ্রাসাগুলোও মৌসুমী এই ব্যবসায় খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি ।

কুমিল্লা মহানগরীর ৫ নং ওয়ার্ডের মোঃ খায়রুল ইসলাম জানান তারা তিনজন শরিকে ১৫৫০০০ টাকা দিয়ে গরু ক্রয় করে কুরবানী দিয়েছেন। মৌসুমী ব্যবসায়ীর কাছে তিনি গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন ৩০০ টাকায়। তার পাশে তানভীরদের  পরিবারে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দামের গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকায়। 
একই অবস্থা কুমিল্লার চান্দিনা, নাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রাম ,লাকসাম সহ অন্যান্য উপজেলার।

কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে সকাল থেকে রাত গড়িয়ে গেলেও ক্রেতার দেখা মেলে নাই অনেক বাজারে । অনেক স্থানে চামড়া খালি পড়ে ছিল। কিছু জায়গায় ১০০ টাকা করে চামড়া কিনেছেন মৌসুমী ক্রেতারা। আবার কিছু জায়গায় ৩০০ টাকা দিয়ে চামড়া ক্রয় করে ১০০  টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে নাঙ্গলকোট উপজেলার গোমকোট এবং মোড্ডা গ্রামের ব্যবসায়ীদের একই অবস্থা। অনেকে ভালো দাম না পেয়ে চামড়া পুতে ফেলেছেন।

কুমিল্লার চান্দিনায় ভালো দামে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে কিছু ব্যবসায়ী চামড়া রাস্তায় ফেলে রেখে চলে গেছে। সেখানে ৫০০ টাকা দিয়ে চামড়া কিনে আরতদারদের কাছে ৩০০ টাকায় চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে।

কুমিল্লা সবচেয়ে বড় চামড়ার আড়ত ঋষি পট্টি। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ৫০০,৬০০ টাকায় চামড়া কিনে এখানে ২০০, ৩০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে।

মৌসুমী ব্যবসায়ীদের দাবি আড়তদারদের  সিন্ডিকেটের কারণে এই অবস্থা হয়েছে। এ বিষয়ে কথা হয়েছে  ঋষিপট্টির গোবিন্দ ঋষি,  সনজিত ঋষি এবং বিপ্লবের সাথে । গোবিন্দ বলেন সরকার নির্ধারিত মূল্য একসাথে লবণ সহ এবং আনুষঙ্গিক খরচ সহ। কিন্তু এই দামে মূল ব্যবসায়ীরা তাদের কাছ থেকে কিনে না। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের কম মূল্যে কিনতে হয়। এক্ষেত্রে সরকার যদি এ মৌসুমগুলোতে তাদের প্রণোদনা দেয় বা সহযোগিতা করে তাহলে তারা বেশি দামে ক্রয় করতে পারবে। তাছাড়া প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর থেকে বা শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে যদি চামড়ার বিপণন এবং বিতরণে নিয়মিত তত্ত্বাবধান করা হয় তাহলে তারা উপকৃত হবে।  

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এবং বিসিক থেকে এ বছর লবণ সহায়তা করা হয়েছে যা ঋষিপট্টির ব্যবসায়ীদের কাছে একেবারেই অপর্যাপ্ত। ৩৭ কেজির বস্তা, মাত্র ৩০ টি বস্তা তারা পেয়েছেন । যেখানে একটি চামড়া প্রসেসড করতেই ১৫ থেকে ২০ কেজি লবণ লাগে। অন্যান্যরা আরো বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ না থাকা, তারা যাদের কাছে বিক্রি করবে অর্থাৎ মূল ব্যবসায়ী যারা তাদের কাছ থেকে দামের নিশ্চয়তা না থাকা এসব কারণে দাম কম হয়েছে। 

এদিকে কৃষি ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। তিনি জানিয়েছেন মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী অনেকেই প্রাকৃতিক চামড়ার পরিবর্তে সিনথেটিক পন্যর দিকে ঝুকছেন।

আরও পড়ুন