৩ কার্তিক ১৪৩৩, অক্টোবর ১৯, ২০২৬

আজ কবি ফররুখ আহমদের ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০:২২, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

আজ কবি ফররুখ আহমদের ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকী

ছবি: সংগৃহীত

কবি ফররুখ আহমদের ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ ১৯৭৪ সালের এই দিনে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

ফররুখ আহমদ আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি। বিংশ শতাব্দীতে ইসলামী ভাবধারার বাহক হলেও তার কবিতার প্রকরণকৌশল ও শব্দচয়ন ছিল অনন্য বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল। আধুনিকতার নানান নন্দন তার কবিতায় পরিব্যাপ্ত। রোমান্টিকতা থেকে আধুনিকতায় উত্তরণের ধারাবাহিকতায় ফররুখ আহমদের সৃষ্টিশীলতা মৌলিক বলে সমালোচকরা স্বীকার করেন।

তার কবিতায় বাংলার অধঃপতিত মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের অণুপ্রেরণা প্রকাশ পেয়েছে। 

ফররুখ ছিলেন স্বাধীনচেতা, আত্ম মর্যাদাবান ও অতি উঁচু মাপের আধুনিক কবি। পশ্চিমা আধুনিক কবিদের রচনার আঙ্গিক ও বিশুদ্ধতা তার কবিতায় দৃশ্যমান ছিল। তিনি ছিলেন শোষণের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ, আইয়ুব শহীর বিরুদ্ধের গণআন্দোলন প্রভৃতি সব স্তরে তিনি ছিলেন সোচ্চার। কবির কলম অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিল। জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কবি মানবতা ও সাম্যের জয়গান গেয়েছেন। 

কবি ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সৈয়দ হাতেম আলী। মাতা বেগম রওশন আখতার।

তিনি ১৯৩৭ সালে খুলনা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ১৯৩৯ সালে কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। পরে স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন ও ইংরেজি সাহিত্যে ভর্তি হলেও পরীক্ষা না দিয়েই তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। 

১৯৪৫ সালে মাসিক ‘মোহাম্মাদী’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও স্থায়ীভাবে চাকরি করতেন ঢাকা বেতারে। ১৯৪২ সালের নভেম্বরে খালাতো বোন সৈয়দা তৈয়বা খাতুন লিলিকে বিয়ে করেন কবি।

সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও ফররুখ আহমদের কবি পরিচিত ছিল প্রধান। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, সাত সাগরের মাঝি (১৯৪৪), সিরাজাম মুনিরা (১৯৫২), নৌফেল ও হাতেম (১৯৬১), হাতেমতায়ী (১৯৬৬) ইত্যাদি। পাখির বাসা (১৯৬৫), হরফের ছড়া (১৯৭০), ছড়ার আসর (১৯৭০) ইত্যাদি তার শিশুতোষ রচনা।

তিনি বাংলা অ্যাকাডেমি পুরস্কার (১৯৬০), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার প্রাইড অব পারফরম্যান্স (১৯৬১), আদমজী পুরস্কার (১৯৬৬), ইউনেসকো পুরস্কার (১৯৬৬), মরণোত্তর একুশে পদক (১৯৭৭), স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৮০) লাভ করেন।

সূত্র : বাসস

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন