২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ , অক্টোবর ১৪, ২০২৬

উত্তরায় মোটরসাইকেল চোরচক্রের কাছে অসহায় পুলিশ!

ইনজামামুল হক চৌধুরী

প্রকাশ: ১৪:৪২, ৩১ মে ২০২৬

উত্তরায় মোটরসাইকেল চোরচক্রের কাছে অসহায় পুলিশ!

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত উত্তরা এখন যেন মোটরসাইকেল চোরচক্রের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। দিনের পর দিন অভিনব কায়দায় মোটরসাইকেল উধাও হচ্ছে, অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই। প্রশ্ন উঠছে—উত্তরা জোন কি তবে চোরদের জন্য ‘সেফ জোন’? নাকি চোরচক্রের কাছে অসহায় পুলিশ! 

জানা যায়, উত্তরা এলাকার বিভিন্ন সেক্টর, বিশেষ করে আবাসিক এলাকা ও মার্কেট সংলগ্ন জায়গা থেকে নিয়মিত মোটরসাইকেল চুরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সিসিটিভি ফুটেজেও চোরদের চেহারা ও উপস্থিতি দেখা গেলেও তাদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তারে অগ্রগতি নেই।

এলাকাবাসী জানান, থানায় জিডি বা মামলা করার পরও তদন্তে গতি নেই। অনেকেই নিজের উদ্যোগে তথ্য সংগ্রহের করে পুলিশ কে দেন তারপরও কোন কাজ হয় না। ভুক্তভোগীদেরই ঘুরতে হচ্ছে থানার দরজায় দরজায় আর তাদের হতাশা বাড়ছে প্রতিদিন। এতে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের প্রশ্ন।

একাধিক সূত্র বলছে, চোরচক্রটি অত্যন্ত সু-সংগঠিত। তারা নির্দিষ্ট সময় পর্যবেক্ষণ করে টার্গেট ঠিক করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মোটরসাইকেল নিয়ে চম্পট দেয়। পরে এসব মোটরসাইকেল দেশের বিভিন্ন স্থানে বা অবৈধ বাজারে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী মিলন বলেন, “আমার মোটরসাইকেলটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের  ১৭ তারিখ সন্ধ্যায় চুরি হয়। ঘটনার এক ঘণ্টার মধ্যেই আমি উত্তরা পূর্ব থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। পরে দুই দিনের মাথায় মামলা দায়ের করি। প্রথমে পুলিশ আমাকে আশ্বস্ত করে যে তারা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু বাস্তবে তারা কোনো ফুটেজ সংগ্রহ করেনি। পরে আমি নিজেই বিভিন্ন জায়গা থেকে ফুটেজ সংগ্রহ করে তাদের হাতে তুলে দিই। এরপরও কোনো অগ্রগতি হয়নি। আমার বিশ্বাস, পুলিশ যদি যথাযথভাবে চেষ্টা করত, তাহলে আমি আমার মোটরসাইকেলটি ফিরে পেতাম।”

ভুক্তভোগী মাহফুজ বলেন, “রোজা শুরু হওয়ার দুই দিন আগে মিমি হাসপাতালের বিপরীত পাশে আমার মোটরসাইকেলটি চুরি হয়। এরপর আমি উত্তরা পূর্ব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। ঘটনার পর একাধিকবার থানায় গিয়ে অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেন, কোনো তথ্য পাওয়া গেলে জানানো হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের তথ্য পাইনি। পুলিশ বলছে তারা চেষ্টা করছে, তবে সেই চেষ্টার কোনো বাস্তব প্রতিফলন আমি দেখিনি। এ ঘটনায় আমি চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। আমার বিশ্বাস, পুলিশ যদি যথাযথভাবে চেষ্টা করত, তাহলে আমি আমার মোটরসাইকেলটি ফিরে পেতে পারতাম।”

নগর অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এমন ধারাবাহিক চুরি শুধু আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতা নয়, বরং গোয়েন্দা নজরদারির বড় ধরনের ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়। যদি দ্রুত এই চক্র শনাক্ত ও গ্রেপ্তার না করা হয়, তাহলে এটি আরও বড় অপরাধ নেটওয়ার্কে রূপ নিতে পারে।

এদিকে উত্তরা এলাকার বাসিন্দারা সরাসরি অভিযোগ করছেন—পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও গাফিলতির কারণেই চোরচক্র এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা অবিলম্বে বিশেষ অভিযান, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে চোরচক্র শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

“এ বিষয়ে উত্তরা জোনের ডিসি মির্জা তারেকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।”

আরও পড়ুন