অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯:২১, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেওয়া ভাষণকে ‘মিথ্যায় ভরা’ বলে আখ্যা দিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। সংগঠনটি বলেছে, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও জাতিসংঘের নথিভুক্ত তথ্যের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে হামাস এ প্রতিক্রিয়া জানায়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিত গণহত্যা’ ও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ অস্বীকার করে নেতানিয়াহু যে বক্তব্য দিয়েছেন, হামাস তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার’ অভিযোগকে সরাসরি নাকচ করেন। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল গণহত্যা করেনি; বরং হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে এমন একটি গণহত্যা ঠেকিয়েছে, যা তার ভাষায় ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হতে পারত। গাজায় গণহত্যার অভিযোগকে তিনি ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা’ বলেও উল্লেখ করেন।
নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে ইসরায়েলি বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় সতর্কতা অবলম্বন করেছে বলেও দাবি করেন। তিনি গাজায় খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ এবং পোলিও টিকাদান কর্মসূচির কথা তুলে ধরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার ও ত্রাণ সংস্থা গাজায় মানবিক সংকট, খাদ্যাভাব ও বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।
হামাসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা চলছে। সংগঠনটির অভিযোগ, সেখানে ফিলিস্তিনি জনগণের ভূমি ও অস্তিত্বের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার অভিযোগের প্রসঙ্গও নেতানিয়াহুর ভাষণে উঠে আসে। তিনি এসব ঘটনাকে কয়েকজন ‘কিশোর অপরাধীর’ কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি এ ধরনের সহিংসতা সমর্থন করেন না। একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার প্রসঙ্গ তুলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পশ্চিম তীরে সহিংসতার অভিযোগকে একতরফাভাবে উপস্থাপনের সমালোচনা করেন।
এদিকে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরুর সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশের কয়েক ডজন প্রতিনিধি বেরিয়ে যান। ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদল আগেই অন্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের এই প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। প্রতিনিধিদের বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে নেতানিয়াহু তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তাদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ বলে মন্তব্য করেন।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় অধিবেশনকক্ষে একদিকে প্রতিনিধিদের বেরিয়ে যাওয়া এবং অন্যদিকে তার সমর্থকদের স্লোগান ও করতালির ঘটনা ঘটে। জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের কয়েকবার শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানাতেও দেখা যায়।
নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জাতিসংঘে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের কারণে তিনি সরাসরি নিউইয়র্কে উপস্থিত হতে পারেননি। আব্বাস ইসরায়েলের দখলদারিত্ব ও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের সমালোচনা করে ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানান।
সূত্র : বিবিসি, আল-জাজিরা, রয়টার্স।