অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০:১০, ৭ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বুধবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। নগরীর মেয়র এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কিয়েভে ‘বড় ধরণের হামলা’ হতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন।
শীত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাজধানীতে হামলা বেড়েছে। রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তা দিতে প্রায় সারাক্ষণই বেজে চলেছে বিমান হামলার সাইরেন।
কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
বুধবার ভোরে সামরিক বাহিনী কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করলে বাসিন্দারা ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নেন। তারা সঙ্গে করে ডাফেল ব্যাগ, ঘুমানোর মাদুর ও কম্বল নিয়ে যান।
ব্যাংকে কর্মরত ইরিনা রিবালচেঙ্কো মেট্রোর প্ল্যাটফর্মে বসে এএফপিকে বলেন, ‘আমরা আমাদের জিনিসপত্র নিয়ে এখানে চলে এসেছি। আমরা পাশেই থাকি।’
তিনি বলেন, ‘পুরো কিয়েভ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আজ আমরা কর্মস্থলে আটকে পড়েছিলাম। আমাদের গ্রুপ চ্যাট ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সবাই সতর্ক থাকতে বার্তা দিচ্ছিলেন।’
রাশিয়ার হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো এবং রেল ও সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। এর মধ্যে দিনিপ্রো নদীর দুই তীরে বিস্তৃত রাজধানীকে সংযুক্তকারী সেতুগুলোও রয়েছে।
‘কিয়েভকে ছিন্নভিন্ন করছে’-
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো বলেন, বুধবারের হামলায় ঘনবসতিপূর্ণ দারনিতস্কি এলাকায় একটি অগ্নিকাণ্ডে দুইজন মৃত্যুবরণ করেছেন।
তিনি টেলিগ্রামে লেখেন, ‘আগুন নেভানোর সময় দুইজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত দুই ব্যক্তির মরদেহও পাওয়া গেছে।’
এর আগে জেলেনস্কি বাসিন্দাদের বিমান হামলার সাইরেনের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেন। রাতে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘রাশিয়া বড় ধরণের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এ বিষয়ে হালনাগাদ গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।’
তিনি বলেন, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ‘প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যতটা সুযোগ দেয়, ততটা সক্ষমতা নিয়ে জবাব দিতে প্রস্তুত।’
জেলেনস্কির ভাষণের পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে পূর্বনির্ধারিত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে কিয়েভের বিভিন্ন এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী সতর্ক করে জানায়, একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভের দিকে আসছে।
সামরিক পর্যবেক্ষণকারী চ্যানেলগুলোও বড় ধরণের রুশ হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে। তাদের মতে, এ হামলায় ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি দ্রুতগতির জেটচালিত ড্রোনও ব্যবহার করা হতে পারে।
৩৬ বছর বয়সী দারিয়া মেদভেদেভা এএফপিকে বলেন, ‘শিশুরা ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। যখনই ভারী গোলাবর্ষণ হয়, আমরা ভূগর্ভে চলে যাওয়ার চেষ্টা করি।’
কিয়েভে অবস্থানরত এএফপি’র এক সাংবাদিক বুধবার ভোরে পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।
ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ জানায়, দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলে রুশ ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত ও বিপুল সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, আহতদের মধ্যে ৭, ১৪ ও ১৬ বছর বয়সী তিন শিশুও রয়েছে। একটি অ্যাপার্টমেন্টে হামলা হলে তারা আহত হয়।
কিয়েভের মেয়র গত সপ্তাহে সতর্ক করে বলেছিলেন, রাজধানীকে এখন যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে থাকতে হবে। তার ভাষায়, সেতু ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে শত্রুপক্ষ ‘কিয়েভকে ছিন্নভিন্ন করছে।’
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী আরও জানায়, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়ায় একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানে হামলায় পরিবহন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।