২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ , অক্টোবর ১১, ২০২৬

বেআইনি আটক বন্ধসহ ইন্টারনেট-রেল চালুর নির্দেশ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭:৪১, ১১ অক্টোবর ২০২৬

বেআইনি আটক বন্ধসহ ইন্টারনেট-রেল চালুর নির্দেশ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোনো নাগরিককে যেন অবৈধভাবে আটক না করা হয়, সে বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এছাড়া, দিল্লিতে মেট্রো ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করারও আদেশ দেওয়া হয়।

একইসঙ্গে দিল্লিতে আন্দোলন ঘিরে পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনা লঙ্ঘনের বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের কাছে আদালত অবমাননার কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।

রবিবার (১১ অক্টোবর) এক বিশেষ বেঞ্চে শুনানিকালে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি. মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী দিল্লি মেট্রো ও ইন্টারনেট সেবা চালু রাখার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

বেঞ্চ আরও নির্দেশ দেন, কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে দিল্লির রাস্তায় ব্যারিকেড বসানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করতে হবে এবং প্রযোজ্য বিধিনিষেধ সাপেক্ষে সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট বা অন্য যেকোনো আদালতে যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করে এমন বিধিনিষেধমূলক নোটিশ বোর্ড সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে।

আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, 'ট্রাফিক নিয়ম মেনে শহরে সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচলের অনুমতি দিতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিকের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যারিকেড বসানোর প্রয়োজনীয়তা অবিলম্বে পর্যালোচনা করতে হবে।'

ইন্টারনেট পরিষেবার বিষয়ে আদালত স্পষ্ট করে বলেন, 'ইন্টারনেট সুবিধা যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।' তবে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে ব্যবস্থা নেওয়ার যে প্রশাসনিক ক্ষমতা সরকারের রয়েছে, আদালত তা কেড়ে নিচ্ছেন না বলে পরিষ্কার করেন। বিচারপতি মোহনা বলেন, 'আইনের প্রয়োজন থাকলে সেই ক্ষমতা সবসময়ই থাকবে।'

আদালত আরও জোর দিয়ে বলেন, 'আইন নির্ধারিত প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক করা যাবে না। বিশেষ করে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি নেই—এমন এলাকায় নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র সমাবেশের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ কড়াকড়িভাবে প্রযোজ্য হবে।'

এদিকে আজ রবিবারেও কেন্দ্রীয় দিল্লিতে প্রতিবাদ মিছিলের চেষ্টা করলে একাধিক ছাত্র সংগঠনের সদস্যকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গেছে।

দিল্লি পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীজুড়ে প্রায় ৬,০০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছিল। এ ছাড়া মূল আন্দোলনের আগের রাতে আগাম সতর্কতামূলক অভিযানের অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও প্রায় ১,০০০ জনকে তুলে নেওয়া হয়।

প্রতিবাদ ঘিরে দিল্লিতে 'গণ-আটক'-এর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর)। তবে তাদের এই বক্তব্য এক বিবৃতিতে প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার।

আরও পড়ুন