অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:৫৩, ৭ নভেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আজ ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন এবং দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা এবং ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে অভ্যুত্থান ঘটে। এ সময় সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি করা হয়।
পরে নিজেকে সেনাপ্রধান ঘোষণা করেন খালেদ মোশাররফ। ৬ নভেম্বর বঙ্গভবনে গিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভা বাতিল ও জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন। প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এ পরিস্থিতিতে ৬ নভেম্বর দিবাগত রাতে সেনাবাহিনীর সাধারণ সিপাহিরা সংগঠিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে সাধারণ মানুষও রাজপথে নেমে আসেন। সিপাহী-জনতার সম্মিলিত অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান জিয়াউর রহমান।
অভ্যুত্থানের পাল্টা প্রতিরোধের মুখে ৭ নভেম্বর সকালে কয়েকজন অনুসারীসহ নিহত হন খালেদ মোশাররফ। এরপর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। জিয়াউর রহমান ক্রমেই রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রীয় ভূমিকায় চলে আসেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে দিনটি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পরিচিতি পায়।
বিএনপির সাত দিনের কর্মসূচি
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। দিবসটির প্রথম দিন আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী। শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের কাছে গিয়ে ডান দিকে মোড় নেবে। এরপর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হবে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এসব কর্মসূচির কথা জানান।