অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪:৫৩, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের নাগাল্যান্ডে চোলাই মদ পান করে গত ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যটি প্রায় তিন দশক ধরে আইনিভাবে ‘ড্রাই স্টেট’ হিসেবে পরিচিত হলেও, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই অবৈধ মদের কারবার কতটা সক্রিয়, এই ঘটনায় তা ফের সামনে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, পূর্ব নাগাল্যান্ডের দুই জেলা মোকোকচুং ও তুয়েনসাংয়ে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মোকোকচুংয়ে অন্তত আটজন এবং তুয়েনসাংয়ে আরও ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মদে কোনও ধরনের রাসায়নিক বা বিষাক্ত উপাদান মিশেছিল, তা নিশ্চিত করতে মৃতদের নমুনা গুয়াহাটির ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আই. বুংলাং চ্যাংয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ মদ সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত চক্রের বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে অভিযান শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় তিন হাজার বোতল অবৈধ মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
নাগাল্যান্ডে ১৯৮৯ সালে প্রণীত আইন কার্যকর হওয়ার পর রাজ্যে মদ উৎপাদন, বিক্রি ও সেবনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য, আইনি নিষেধাজ্ঞা অবৈধ মদের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি; বরং এর ফলে গড়ে উঠেছে একটি সমান্তরাল কালোবাজার।
সাম্প্রতিক মৃত্যুগুলি সেই ব্যবস্থার ঝুঁকিকেই সামনে এনেছে। বিশেষ করে মদের সরকারি বিক্রি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছল, তার উৎস এবং সরবরাহ-শৃঙ্খল এখন তদন্তকারীদের নজরে।