অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:৪৮, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী জোটের ১১ নেতার করা আবেদনে ১৪টি ত্রুটি চিহ্নিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি। এসব ত্রুটির মধ্যে রয়েছে আদালত ফি বাবদ ২২০ রুপি কম জমা দেওয়া, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের অস্পষ্ট ফটোকপি এবং নয়জন আবেদনকারীর আইনজীবী নিয়োগসংক্রান্ত নথির ঘাটতি।
এসব কারণে আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আবেদনটির শুনানি হচ্ছে না। ত্রুটিগুলো সংশোধনের পর বুধবার শুনানির জন্য আবেদনটি তালিকাভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন আবেদনকারীদের আইনজীবীরা।
আবেদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদনও করেছেন বিরোধী নেতারা।
আবেদনকারীদের মধ্যে যাদের আইনজীবী নিয়োগের প্রয়োজনীয় নথি বা ওকালতনামা জমা পড়েনি, তাদের মধ্যে রয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী প্রসাদ যাদব, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (শরদচন্দ্র পাওয়ার) সংসদ সদস্য সুপ্রিয়া সুলে, শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সৌগত রায়।
এ ছাড়া জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট রিট আবেদনে ব্যক্তিগত ব্যক্তিদের কেন বিবাদী করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি। আবেদনে ভারতের নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশিকে বিবাদী করা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় রাহুল গান্ধী নিজে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে আবেদনটি জমা দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন রাজ্যসভায় বিরোধীদলীয় নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং বিরোধী জোটের অন্য নেতারা।
আবেদনে বিরোধী নেতারা বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাখার স্বার্থে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
আইনজীবী এস প্রসন্নের মাধ্যমে জমা দেওয়া আবেদনে নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনকারীদের বক্তব্য, তারা এসআইআর কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন না। বরং এই কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট স্বীকৃত সুরক্ষাব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন একটি সম্মিলিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার অনুরোধ করেছেন তারা।