অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:৫৬, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখার সময় বাড়ানো হয়েছে। বিমানবন্দরের স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা এবং পুনরায় কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি যাচাই করতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ৯টা পর্যন্ত বিমানবন্দরটি বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে। উড়োজাহাজ চলাচল ও বিমানবন্দরের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে—এমন তথ্য জানাতে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি ‘নোটিস টু এয়ারমেন’-এ এ সময়সীমা উল্লেখ করা হয়।
এদিকে বিমানবন্দরে হামলার পর সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কীভাবে হামলাগুলো ঠেকাতে ব্যর্থ হলো, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে অবগত দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাতে এপি জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হুতিরা প্রথমে কয়েকটি ড্রোন পাঠিয়ে এরপর ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলা চালায়। হামলায় কিছু ক্ষেপণাস্ত্র বিমানবন্দরে আঘাত হানে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হুতিদের হাতে এমন কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেগুলোর ওয়ারহেড উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করা প্যাট্রিয়টসহ প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য কঠিন হতে পারে।
হামলার আগে কেন আগাম সতর্কতা জারি করা হয়নি, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এক হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে রিয়াদে পৌঁছেছিল।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস ও যাত্রীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, মক্কা ও মদিনা ছাড়া দেশটির অন্য বিমানবন্দরগুলো অনিরাপদ।
এর আগে বিমানবন্দরে হামলায় হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। শনিবারের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হন। রোববারের আরেক হামলায় একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হন।