সামিউল বাশির সামি
প্রকাশ: ২৩:৪১, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় কেউ দিলে তার সাথে সাবেক উপমন্ত্রী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এ কে এম এনামুল হক শামীম কুকুর বিড়ালের মতো ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক সময়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পদ পাওয়া নেতা ও কৃষকলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা সামিউল বাশির সামি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথে সামিউল বাশির সামি অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকায় রয়েছেন। গত দুই বছরে দল ও দলের শীর্ষ নেতাদের নানা অনিয়ম দুর্নীতি নিয়েও কথা বলে আসছেন তিনি। এমনকি লীগের যেসব কেন্দ্রীয় নেতার সন্তানরা আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আন্দোলনে সরাসরি জড়িত ছিলেন তাদেরও সমালোচনা করেছেন সামি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামির হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য যে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছিলেন সেটি উত্তোলন করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক একজন কর্মকর্তার বিতর্কিত ভূমিকার কথাও তুলে ধরে নিজের বঞ্চনার কথাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাহসের সাথে তুলে ধরেন তিনি। এতে আর ওই অর্থ তুলনে না পারায় এই নেতা এখনো হৃদরোগ সহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার কথা বিবেচনা করে পরিবার সঙ্গেও নিয়মিতভাবে বসবাস তো দূরের কথা যোগাযোগও রাখতে পারছেন না।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক শীর্ষ নেতা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপির তীব্র সমালোচনা করেন সামি। এই নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হলেও কেউ কেউ সামিকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রশংসা করছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সামি সমালোচনা করে লিখেছেন, "আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রজ শ্রদ্ধেয় এনামুল হক শামীম ভাই, আসসালামু আলাইকুম। আমেরিকায় দলীয় প্রোগ্রামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা যখন আপনাকে সালাম দিয়ে কথা বলতে যায় আপনি তাদের সালামের উত্তরটুকু কখনো দেন না ভাই, কথা বলা তো অনেক দূরের কথা।

ছিঃ ভাই। ছিঃ। ক্ষমতার ১৫ বছর ৭ মাস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে কুকুর বিড়াল সুলভ আচরণ করেছেন, সেটা ভিন্ন প্রেক্ষাপট ছিলো। আওয়ামী লীগের এই খারাপ সময়ে অন্তত ভালো ব্যবহারটুকু করতে শিখেন ভাই।
শামীম ভাই, আপনার সাথে আমার এই জীবনে সশরীরে একবারই দেখা হয়েছিলো, ২০১৯ বা ২০ সালে আমার উপজেলা মতলব উত্তরে আপনি এসেছিলেন দলীয় প্রোগ্রামে। উপজেলায় আপনার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রেস্ট হাউজে শ খানেক নেতাকর্মী সহ আমি গিয়ে আপনাকে সালাম দিয়ে আপনার ক্যাম্পাসের ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়ার পর সালামের উত্তরটুকু না দিয়ে চলে গিয়েছিলেন ভাই। সাথে থাকা এলাকার ছোটভাইরা অবাক হয়ে বললো, আপনি জাহাঙ্গীরনগরের পরিচয় দেয়ার পরেও তো সালামের উত্তরটুকু দিলো না ভাই। সুতরাং আমেরিকা প্রবাসী জাহাঙ্গীরনগরের সাবেক ছাত্রলীগার ভাইদের কাছে আপনার বিষয়ে যখম একই ধরণের কথাবার্তা শুনি, খুব একটা অবাক হই না ভাই কারণ এটা আপনার অনেক পুরাতন খাসালত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় কেউ দিলে তার সাথে আপনি স্রেফ কুকুর বিড়ালের মতো ব্যবহার করেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ জাকসুর ভিপি থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি হয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, সংসদ সদস্য, মন্ত্রীত্ব, একজনমে সবকিছু পেয়েছেন ভাই। আপনার ভিত্তিটাই জাহাঙ্গীরনগর। অথচ আওয়ামী লীগের ক্ষমতার ১৫ বছর ৭ মাসে আপনার হাত দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন নেতাকর্মী পাশ করে বের হবার পর চাকরিক্ষেত্রে অথবা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে উপকৃত হয়েছে, এরকমটা দেখাতে পারবেন না ভাই। এরকম নজিরই নেই। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটিতে আপনার একটা ভাগ সবসময় থাকতেই হয়, নাহলে কমিটি সই হয় না।
ভাই, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ৩০০ নেতাকর্মীর ৫ আগস্টের পর ছাত্রত্ব চলে গিয়েছে, আপনি আজ পর্যন্ত কারো একটা খোঁজ নেন নাই। শামীম মোল্লাকে পি টি য়ে মেরে ফেলা হয়েছে, তার পরিবারের সাথে আপনি একটাবার যোগাযোগ করেন নাই। এমনকি জাহাঙ্গীরনগরের সাবেক কোনো নেতাকর্মী এখনো আপনার সাথে কথা বলতে পারেনা কারণ আপনি তাদেরকে মানুষের কাতারেই মনে করেন না।
জীবনে রাজনীতিতে সব কিছুই পেয়েছেন জাকসুর সাবেক ভিপি হিসেবে। অথচ নিজের ক্যাম্পাসের সাবেক ছাত্রলীগারদের সাথে আপনি ভালোভাবে কথা বলতেও ঘৃণা বোধ করেন। দলের ক্ষমতার ১৫ বছর ৭ মাসেও জাহাঙ্গীরনগরের সাবেক ছাত্রনেতাদের দেখলে এমন একটা ভাব করতেন যে আপনার কাছে হয়তো কোনো দয়া অনুগ্রহ খুঁজতে এসেছে, ৫ আগস্টের পর এই ভয়াবহ খারাপ সময়েও আপনার ভেতর এতটুকু মানবিকতা কাজ করেনা যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক বর্তমান কারো সাথে দেখা হলে ভদ্রতা দেখিয়ে এক মিনিট সুন্দর করে কথা বলার।
অথচ আওয়ামী লীগের ক্ষমতার সময়ে এই আপনিই ছুটে যাবেন জাহাঙ্গীরনগরের টেন্ডার থেকে শুরু করে ভিসি প্রোভিসি শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী ঝাড়ুদার মালি পিয়ন সমস্ত নিয়োগ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
এই জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাস আপনাকে সবকিছু দিয়েছে, কিন্তু এই ক্যাম্পাসের ছাত্রলীগের ছেলেমেয়েদেরকে আপনি স্রেফ কুকুর বিড়ালের চোখে দেখেন। আজ পর্যন্ত হিসাব মিলাতে পারলাম না ভাই, এই ক্যাম্পাসের প্রতি আপনার এতো ঘৃণা কিজন্য?
ভালো থাকবেন ভাই। আমার কথায় কষ্ট পেলে দুঃখিত, কিন্তু আমি এরকমই। যেখানে অন্যায় অবিচার দেখি, সেখানে এক ইঞ্চি ছাড় আমি দেই না। সে আপনি যা কিছুই হয়ে থাকেন, আমার ভেতরে কোনোধরণের ভয়ভীতি কাজ করেনা জন্মগতভাবেই। ইউনুসের সময় দেশে থেকে তিনবেলা ইউনুসকে গাইল দিয়েছি, বিএনপির সময় তারেক রহমানকেও ছাড় দিয়া কথা বলিনা সেখানে আপনি তো স্রেফ বিদেশে পালিয়ে থাকা একজন কাপুরষ মাত্র। ভালো সময়ে আমারে দল থেকে লাথি মেরে খেদাতে পারবেন, খেদায়েন ভাই। এই খারাপ সময়েও আওয়ামী লীগের কোনো জায়গায় আমি হয়তো জায়গা পাবোনা আপনার স্রেফ একটা ফোন কলের কারণে।পরোয়া করি না ভাই। আমি আমার স্ট্যান্ডে সবসময়ই অটল থাকি। এখন যেরকম আছি, ভবিষ্যতেও আমি এরকমই থাকবো, ভয়ডরহীনভাবে সত্যের পথে লড়াই করবো।
এভাবেই আওয়ামী লীগের প্রতি নিজের আনুগত্য, কর্মীদের প্রতি নেতাদের অবহেলা ও আগামীতেও রাজপথের লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরেন কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সামিউল বাশির সামি।