৩ আশ্বিন ১৪৩৩ , সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

মাইক্রোপ্লাষ্টিক ভয়ংকর

সৈয়দ সাফিউল হাসান চিশতী

প্রকাশ: ০০:৫৯, ৩০ জুলাই ২০২৬

মাইক্রোপ্লাষ্টিক ভয়ংকর

ছবি: সংগৃহীত

দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির উপস্থিতি নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গৃহস্থালির চারটি অতিপরিচিত উপাদান টুথপেস্ট , ভোজ্য সয়াবিন তেল, চিনি এবং দুধ নিয়ে গবেষণায় যে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, তা যেকোনো সাধারণ নাগরিকের জন্যই শঙ্কার কারণ। বাংলাদেশে পরিচালিত  পৃথক পৃথক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আমরা প্রতিদিন যেসব ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট  রান্নার তেল, খাবার চিনি, দুধ ব্যবহার করছি, তার একটি বড় অংশে মিশে আছে বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক বা ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা।

দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার আড়ালে এই অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে মানবদেহে ঢুকছে, এর সুদূরপ্রসারী ক্ষতি কী এবং দেশের প্রচলিত আইন প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা কীভাবে সুরক্ষার দাবি তুলতে পারি—তা নিয়েই এই বিশদ বিশ্লেষণ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরি এবং পরিবেশবাদী সংস্থা ইএসডিও (ESDO)-র একটি যৌথ গবেষণায় দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯টি ব্র্যান্ডের মোট ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়।

পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায় পরীক্ষা করা ৩৪টি নমুনার মধ্যে ২৬টি টুথপেস্টেই (৭৬.৫%) ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা উপস্থিত ছিল।  ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সর্বনিম্ন ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে ।বেশি দূষিত টুথপেস্টের তালিকার মধ্যে মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেলে ৩২০টি কণা / ১০০ গ্রাম , ক্লোজআপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেনথল ফ্রেশে ১৬০টি কণা / ১০০ গ্রাম, কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলায় (শিশুদের টুথপেস্ট) ১৪০টি কণা / ১০০ গ্রাম, সিগন্যাল গ্রিন টিতে  ১২০টি কণা / ১০০ গ্রাম, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট এবং হিমালয় কমপ্লিট কেয়ারে ১০০টি কণা / ১০০ গ্রাম, সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে ৮০টি কণা / ১০০ গ্রাম পাওয়া গেছে।

শিশুদের উপযোগী বলে দাবি করা ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেই ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা মিলেছে। ৮টি টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—জেনফ্রেশ, প্যারাশুট জাস্ট ফর বেবি (আম) এবং ক্লোজআপ রেড-হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি। কোনো পণ্যের গায়েই উপাদান তালিকায়  যে কৃত্রিম পলিমার ব্যবহার করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করে লেখা ছিল না।

আবার দেখা যাচ্ছে জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালিসিস-এ প্রকাশিত গবেষণায় বাংলাদেশের বাজারে থাকা বোতলজাত ও ড্রামের খোলা সয়াবিন তেলের মোট ৬০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

পরীক্ষার ফলাফলে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী  বোতলজাত ব্র্যান্ডের তেল  প্রতি লিটার তেলে গড়ে ৪৮,০৬৭টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। বোতলজাতকরণের সময় ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পাইপ, প্যাকেট করার বোতল  এবং বোতলের ক্যাপ থেকে মূলত এসব কণা তেলের সাথে মেশে। খোলা ড্রামের তেলে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলে গড়ে ৫৯,৭৭৮টি কণা পাওয়া গেছে। নোংরা ড্রামে সংরক্ষণ, প্লাস্টিকের পাত্রে খোলা পরিবহন এবং প্লাস্টিক পাইপ দিয়ে মেপে বিক্রি করার ফলে ড্রামের তেলে দূষণের মাত্রা অনেক বেশি।

বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া কাঁচা দুধ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পেয়েছেন গবেষকেরা। পরীক্ষা করা ৪১টি নমুনার প্রতিটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কণা পাওয়া গেছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তরল ও গুঁড়া দুধে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের একদল গবেষকের গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।গবেষণাটির শিরোনাম ‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস কনটামিনেশন অব মিল্ক অ্যান্ড মিল্ক প্রোডাক্টস ইন বাংলাদেশ: ক্যারেক্টারাইজেশন, ডায়েটারি এক্সপোজার অ্যান্ড রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’।

অন্য একটি গবেষণায় এসেছে দেশের বাজারের প্রায় ৯৫ শতাংশ চিনিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যার প্রধান উৎস হলো প্লাস্টিকের মোড়ক, প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতি এবং পরিবেশের দূষণ। প্রতি কেজি চিনিতে প্রায় ২১০ থেকে ৫০৮টি পর্যন্ত ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়। জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালিসিস সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৫ শতাংশ চিনির নমুনা মাইক্রোপ্লাস্টিক দ্বারা দূষিত। ব্র্যান্ডেড চিনিতে প্রতি কেজিতে গড়ে ৩২২টি এবং খোলা চিনিতে গড়ে ৪০৩টি কণা পাওয়া । এর মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ তন্তু বা ফাইবার, ২১ শতাংশ খণ্ড এবং বাকি অংশ ফিল্ম ও গোলাকার কণা। চিনির প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফিল্টার, পাইপ, বস্তা এবং পরিবেশের ধুলাবালি থেকে এসব কণা মিশছে। মানবদেহে নিয়মিত প্লাস্টিক কণা প্রবেশের ফলে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে গবেষকরা সতর্ক করেছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, তেলের ভেতরে থাকা প্লাস্টিকের ৮২.৫%-ই অত্যন্ত সূক্ষ্ম ফাইবার বা সুতার মতো অংশ। এফটিআইআর স্পেকট্রোস্কোপি পরীক্ষায় এতে পলিয়েস্টার, পলিপ্রোপিলিন , পলিইথিলিন টেরেফথালেট , পলিইউরেথেন  এবং নাইলনের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

প্রতিদিন দাঁত মাজা বা রান্নার মাধ্যমে শরীর কীভাবে এই বিষাক্ত উপাদানের মুখোমুখি হচ্ছে, তা বোঝা অত্যন্ত জরুরি। কুলি করার সময় মাড়ি ও মুখের ভেতরের সুক্ষ্ম ঝিল্লির মাধ্যমে প্লাস্টিক কণা সরাসরি রক্তে মিশতে পারে। তাছাড়া অসাবধানতাবশত পেটে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তো রয়েইছে। তেল রান্নার সময় উত্তপ্ত হলেও প্লাস্টিক গলে নষ্ট হয় না, বরং তেলে দ্রবীভূত অবস্থায় খাবারের মাধ্যমে সরাসরি পরিপাকতন্ত্রে পৌঁছায়।

চিনি এবং দুধের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।  সূক্ষ্ম প্লাস্টিক কণাগুলো পাকস্থলী ও অন্ত্রের ভেতরের মসৃণ দেয়ালে অনবরত ঘর্ষণ সৃষ্টি করে। এর ফলে অন্ত্রে ঘা বা ক্ষত তৈরি হতে পারে, যা থেকে দীর্ঘমেয়াদে পরিপাকপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। যেসব কণা ১৫০ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট, সেগুলো রক্তনালীর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে যকৃৎ, কিডনি ও ফুসফুসে জমা হতে থাকে। প্লাস্টিক নরম বা নমনীয় করার জন্য এতে বিসফেনল-এ  এবং ফ্যাথালেটসের মতো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। রক্তে মিশে এসব উপাদান হরমোনের স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট করে, যা প্রজনন ক্ষমতার ক্ষতি করে। দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি  কোষের ভেতরে জমে থাকা প্লাস্টিক অণুগুলো কোষের অভ্যন্তরীণ স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে এবং ডিএনএ-র ক্ষতি সাধন করে, যা পরবর্তীতে ক্যানসারসহ নানা জটিল ব্যাধির জন্ম দিতে পারে।
এক্ষেত্রে নিজেদের ও পরিবারের সুরক্ষায় কিছু পরিবর্তন অবিলম্বে আনা প্রয়োজন। 

টুথপেস্টের উপাদানের তালিকায় পলিমার, পলিইথিলিন , পলিপ্রোপিলিন  জাতীয় উপাদান থাকলে তা কেনা থেকে বিরত থাকা। প্রাকৃতিক ও পরীক্ষিত ব্র্যান্ড ব্যবহারে প্রাধান্য দেওয়া। টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মানবস্বাস্থ্য এবং পরিবেশ উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। এর বিকল্প হিসেবে মেসওয়াক ব্যবহার করা অত্যন্ত কার্যকরী ও নিরাপদ একটি সিদ্ধান্ত। মেসওয়াকে থাকা স্বাভাবিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান দাঁতের জীবাণু ধ্বংস করে এবং মাড়ি মজবুত রাখতে সাহায্য করে। তাই ক্ষতিকারক প্লাস্টিক বর্জন করে মেসওয়াক ব্যবহার করলে দাঁতের সুরক্ষা ও পরিবেশ উভয়ই ভালো থাকবে। বৈজ্ঞানিকভাবে মেসওয়াক   প্রাকৃতিক সিলিকা এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকায় এটি প্লাস্টিক-ভিত্তিক ক্ষতিকর পলিমার ছাড়াই কার্যকরভাবে দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষা দেয়।

বাজার থেকে খোলা ড্রামের তেল কেনা বন্ধ করা উচিত। সুযোগ থাকলে কাচের বোতলে সংরক্ষিত বা কোল্ড-প্রেসড খাঁটি তেল ক্রয় করা। প্লাস্টিকের পাত্রে রেখে কোনো খাবার বা তেল গরম করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। তেল উত্তপ্ত হলে প্লাস্টিক সহজেই তেলের সাথে মিশে যায়। প্লাস্টিকের বোর্ড বা চামচের বদলে কাঠের, বাঁশের বা স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি রান্নার সরঞ্জাম ব্যবহার নিশ্চিত করা।
টুথপেস্টে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক উপাদান (যেমন: হাইড্রেটেড সিলিকা বা সোডিয়াম বাইকার্বোনেট) ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা উচিত। তেল পরিশোধনাগারে পুরনো রবার বা প্লাস্টিক পাইপলাইনের পরিবর্তে ফুড-গ্রেড স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার শুরু করতে হবে।

গুঁড়ো দুধ ও চিনির ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা যায়। যেমন, প্লাস্টিকের প্যাকেটের বদলে কাঁচ, কাগজ বা কাপড়ের ফুড-গ্রেড প্যাকেজিংয়ে বাজারজাত করা। মিল ও কারখানাগুলোতে প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় প্লাস্টিক ফিল্টার বা পাত্রের বদলে স্টিল বা স্টেইনলেস স্টিলের সরঞ্জাম ব্যবহার করা। বিএসটিআই  এবং খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত খাবারে প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি নিয়মিত ল্যাব টেস্ট করা। প্যাকেটজাত ও রিফাইন করা চিনির বদলে অর্গানিক বা খোলা লাল চিনি (দেশি গুড়) এবং সরাসরি খামারের তরল দুধ পানের অভ্যাস করা। গুঁড়ো দুধ বা চিনি পানির সাথে মেশানোর পর খুব সূক্ষ্ম সুতি কাপড় দিয়ে ছেঁকে ব্যবহার করা। কারখানা ও পরিবেশ সর্বত্র সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক ও প্লাস্টিক বস্তার ব্যবহার কঠোরভাবে বন্ধ করা।

পণ্যে ক্ষতিকর উপাদান মেশানো বা তা গোপন রাখা দেশের আইন অনুযায়ী স্পষ্ট অপরাধ। বাংলাদেশের সংবিধানে ও প্রচলিত আইনে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদে আছে দেশের জনগণের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা ও খাদ্যের সঠিক মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মূল দায়িত্ব। সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে আছে আইনানুযায়ী নিরাপদ জীবনধারণের অধিকার প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায় অনুযায়ী, এই "জীবনের অধিকার"-এর ভেতরেই ভেজাল মুক্ত খাদ্য ও সুস্থ পরিবেশের অধিকার অন্তর্ভুক্ত।

প্রচলিত সংবিধিবদ্ধ আইন নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এর ধারা ২৩ এ আছে খাবারে বা খাদ্য উপাদানে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক, বিষাক্ত উপাদান বা প্লাস্টিক মেশানো বা এমন পণ্য বাজারজাত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ধারা ২৬ এ আছে ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্য বিক্রি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া ও কারখানা সিলগালা করার ক্ষমতা রাখে। 
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ধারা ৫২ অনুযায়ী জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বা বিপজ্জনক কোনো পণ্য বাজারে বিক্রি বা উৎপাদন করলে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অনধিক ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। ধারা ৪৪ অনযায়ী প্যাকেটে উপাদানের তথ্য সঠিকভাবে না দিয়ে গ্রাহকের কাছে তথ্য গোপন করলে ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। 

ইএসডিও-র গবেষণা প্রকাশের পর জনস্বার্থে দায়ের করা রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগ বিএসটিআই ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে বাজারজাতকৃত এসব টুথপেস্ট ও সয়াবিন তেল ল্যাবরেটরিতে পুনর্নিরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন।

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির ৫/১৪ প্রস্তাবনায় বাংলাদেশসহ স্বাক্ষরকারী দেশগুলো প্রসাধন ও খাদ্যজাত পণ্যে প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধের ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বহু দেশে ইতোমধ্যেই টুথপেস্ট ও কসমেটিকসে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যবহার আইনিভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আমরা কী খাচ্ছি আর কী ব্যবহার করছি—তা জানার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে। প্রাত্যহিক ব্যবহারের টুথপেস্ট বা সয়াবিন তেলে প্লাস্টিকের মতো উপাদানের উপস্থিতি প্রতিরোধে শুধু সরকারের নজরদারিই যথেষ্ট নয়, বরং সাধারণ ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে। নিয়মিত তদারকি, বাজার থেকে ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত পণ্য সরিয়ে নেওয়া এবং আইন অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়াই পারে আমাদের পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ জীবন উপহার দিতে।

লেখক, আহ্বায়ক, চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ
ইমেইল: [email protected]

আরও পড়ুন