৫ আশ্বিন ১৪৩৩ , সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রীর ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪:৫২, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রীর ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন

ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শেরেবাংলানগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুদ্দোহা সরকার আদালতে এ রিমান্ড আবেদন করেন।

এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত জুনে ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়। এরপর তিনি শেরেবাংলানগর থানার মানিক মিয়া এভিনিউ সংলগ্ন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে থাকতেন। একই বাসায় তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামও থাকতেন।

এজাহারে মরিয়মের বাবার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলাম তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের কাছে এসব নির্যাতনের কথা জানিয়েছিলেন।

এতে আরও বলা হয়, রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ইসলাম ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। পরে তিনি মরিয়মের খালা সুফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে লোকজনের ভিড় দেখতে পান। কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। জানালা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মরিয়মকে ঝুলতে দেখা যায়।

পরে পুলিশের উপস্থিতিতে গণপূর্ত বিভাগের (পিডব্লিউডি) কর্মী সাইদুল ইসলাম শাবল দিয়ে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেন। মরিয়মের বিছানা থেকে একটি হাতে লেখা চিঠিও উদ্ধার করা হয়। সেখানে বিশ্বাসভঙ্গ, মানসিক কষ্ট ও সম্পর্কের টানাপড়েনের কথা উল্লেখ ছিল বলে এজাহারে বলা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়েতে তার মামা ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা ছিল। তাদের অভিযোগ, নজরুল ইসলাম ও মাকছুদার নির্যাতন এবং আসামিদের প্ররোচনা সহ্য করতে না পেরে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।

ঘটনার পর পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। মামলাটি তদন্ত করছে শেরেবাংলানগর থানা পুলিশ।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন